পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে সেটেলমেন্ট রিকনসিলিয়েশন ও অমিল ট্র্যাকিং: বাংলাদেশের ব্যবসার ব্যবহারিক গাইড
অর্ডার সফল হলেও সেটেলমেন্টের হিসাব সব সময় সঙ্গে সঙ্গে মেলে না। বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য এই গাইডে অর্ডার, নিজস্ব পেমেন্ট চ্যানেলের রিপোর্ট এবং অর্থপ্রাপ্তির রেকর্ড মিলিয়ে দেখা, অমিলের কারণ শনাক্ত করা এবং সমাধানের প্রমাণ সংরক্ষণের ব্যবহারিক প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি BD Payment-এর সফটওয়্যার সেবার ভূমিকা ও সীমাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
发布时间:2026-11-07
পেমেন্টের অর্ডার সফল দেখাচ্ছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট অর্থপ্রাপ্তির রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার চ্যানেলের রিপোর্টে থাকা একটি লেনদেন অভ্যন্তরীণ হিসাবে অনুপস্থিত। একাধিক মার্চেন্ট ও নিজস্ব পেমেন্ট চ্যানেল পরিচালনাকারী বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য এ ধরনের অমিল শনাক্ত ও ব্যাখ্যা করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দৈনিক মোট টাকা মিললেই প্রতিটি লেনদেন সঠিকভাবে হিসাবভুক্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত হয় না।
একটি কার্যকর পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম অর্ডার, চ্যানেলের প্রতিক্রিয়া এবং আর্থিক রেকর্ডকে সম্পর্কিত করে হিসাব যাচাইয়ে সহায়তা করতে পারে। তবে সফটওয়্যারে সফল স্ট্যাটাস দেখা এবং বাস্তবে অর্থ সেটেল হওয়া আলাদা বিষয়। এই পার্থক্য মাথায় রেখে সেটেলমেন্ট রিকনসিলিয়েশন ও অমিল ট্র্যাকিংয়ের প্রক্রিয়া সাজাতে হবে।
সেটেলমেন্ট রিকনসিলিয়েশন কী যাচাই করে?
সেটেলমেন্ট রিকনসিলিয়েশন হলো প্রত্যাশিত লেনদেনের ফল ও আর্থিক হিসাবের সঙ্গে বাস্তব রিপোর্ট এবং অর্থ চলাচলের রেকর্ড মিলিয়ে দেখা। এতে কত টাকা পাওয়ার কথা, কোন ব্যাচে থাকার কথা, কী সমন্বয় হয়েছে এবং কী এখনো বাকি—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়।
অর্ডার ম্যাচিং ও সেটেলমেন্ট যাচাই এক নয়
অর্ডার ম্যাচিংয়ে সাধারণত অভ্যন্তরীণ অর্ডারের সঙ্গে চ্যানেলের লেনদেন শনাক্ত করা হয়। সেটেলমেন্ট যাচাইয়ে আরও দেখতে হয় সংশ্লিষ্ট অর্থ কোন রিপোর্টে এসেছে, প্রযোজ্য সমন্বয়ের পর নিট পরিমাণ কত এবং অর্থপ্রাপ্তির প্রমাণ আছে কি না। ফলে অর্ডার মিলে গেলেও সেটেলমেন্ট অমিল থাকতে পারে।
- অর্ডার রেকর্ড: ব্যবসা কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ বা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।
- চ্যানেল রেকর্ড: গ্রাহকের নিজস্ব চ্যানেল সেই নির্দেশের কী ফল জানিয়েছে।
- সেটেলমেন্ট রিপোর্ট: কোন লেনদেন বা সমন্বয় কোন ব্যাচে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- অর্থপ্রাপ্তি বা অর্থপ্রদানের রেকর্ড: গ্রাহকের নিজস্ব হিসাবে বাস্তব অর্থ চলাচলের কী প্রমাণ রয়েছে।
সব উৎসে একই স্তরের তথ্য নাও থাকতে পারে। কোনো হিসাবে শুধু ব্যাচের মোট জমা দেখা গেলে সেটি আগে সেটেলমেন্ট ব্যাচের সঙ্গে মিলবে; এরপর ব্যাচের বিস্তারিত থেকে পৃথক অর্ডার যাচাই করতে হবে।
নির্ভরযোগ্য হিসাবের জন্য ডেটা প্রস্তুত করুন
একটি অভিন্ন শনাক্তকরণ কাঠামো রাখুন
প্রতিটি অর্ডারের জন্য অনন্য অভ্যন্তরীণ আইডি রাখুন। পাশাপাশি মার্চেন্ট আইডি, চ্যানেল পরিচয়, চ্যানেলের লেনদেন রেফারেন্স এবং সেটেলমেন্ট ব্যাচ আইডি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুন। শুধু টাকার পরিমাণ বা কাছাকাছি সময় দেখে দুটি রেকর্ড নিশ্চিতভাবে মিলিয়ে দেওয়া নিরাপদ নয়; একই অঙ্কের একাধিক লেনদেন থাকতে পারে।
একটি অর্ডারে একাধিক পেমেন্ট প্রচেষ্টা থাকলে প্রচেষ্টাগুলোর আলাদা রেফারেন্স দরকার। রিফান্ড, রিভার্সাল বা অন্যান্য সমন্বয়ও মূল অর্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকবে, কিন্তু পৃথক রেকর্ড হিসেবে শনাক্তযোগ্য হতে হবে।
সময়, মুদ্রা ও স্ট্যাটাসের অর্থ নির্ধারণ করুন
অর্ডার তৈরির সময়, চ্যানেলে সম্পন্ন হওয়ার সময় এবং সেটেলমেন্টের তারিখ আলাদা করে রাখুন। বাংলাদেশের অপারেশনাল রিপোর্টে বাংলাদেশ সময় ব্যবহার করলে বাহ্যিক উৎসের টাইমজোন রূপান্তরের নিয়ম লিখিত রাখুন। মধ্যরাত বা কাট-অফের কাছাকাছি লেনদেন অন্য ব্যাচে যাওয়াকে যেন সঙ্গে সঙ্গে হারানো লেনদেন বলা না হয়।
মুদ্রার কোড এবং অর্থের দশমিক নির্ভুলতা বজায় রাখুন। অভ্যন্তরীণ সফল, চ্যানেল কর্তৃক নিশ্চিত এবং সেটেলড—এই অবস্থাগুলোর সংজ্ঞাও পৃথক হওয়া দরকার। কোন উৎস কোন অবস্থার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, তা চ্যানেলের ডকুমেন্টেশন ও ব্যবসার যাচাইকরণ নীতিতে নির্ধারণ করুন।
সেটেলমেন্ট রিকনসিলিয়েশনের ধাপে ধাপে কার্যপ্রবাহ
১. তুলনার পরিসর ঠিক করুন
কোন মার্চেন্ট, চ্যানেল, মুদ্রা, সময়সীমা এবং সেটেলমেন্ট ব্যাচ নিয়ে কাজ হচ্ছে, তা আগে নির্ধারণ করুন। দৈনিক রিকনসিলিয়েশন করলেও সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের চুক্তিভিত্তিক সময়সূচি বিবেচনায় নিতে হবে। আজকের সফল অর্ডারের সব অর্থ আজই জমা হওয়ার কথা—এমন অনুমান করা উচিত নয়।
২. উৎসের পূর্ণতা যাচাই করুন
অর্ডার ডেটা, চ্যানেল রিপোর্ট, সেটেলমেন্ট বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক অর্থ চলাচলের রেকর্ড সংগ্রহ করুন। এরপর দেখুন রিপোর্টের সময়সীমা সঠিক কি না, কোনো অংশ বাদ পড়েছে কি না এবং একই ফাইল আগে আমদানি করা হয়েছে কি না। আংশিক API ফলাফল বা অসম্পূর্ণ ফাইল থেকে তৈরি অমিল প্রকৃত আর্থিক সমস্যা নাও হতে পারে।
৩. শক্তিশালী রেফারেন্স দিয়ে ম্যাচ করুন
প্রথমে অনন্য লেনদেন রেফারেন্স, সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট এবং চ্যানেল মিলিয়ে সম্ভাব্য জোড়া নির্ধারণ করুন। তারপর অঙ্ক, মুদ্রা ও স্ট্যাটাস যাচাই করুন। একাধিক সম্ভাব্য মিল পাওয়া গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত না করে পর্যালোচনার তালিকায় পাঠান। ব্যাচভিত্তিক জমার জন্য একাধিক লেনদেনের যোগফল যাচাইয়ের আলাদা নিয়ম লাগতে পারে।
৪. প্রত্যাশিত নিট পরিমাণ হিসাব করুন
প্রযোজ্য লেনদেনের মোট পরিমাণ থেকে চুক্তি অনুযায়ী কর্তন, রিফান্ড, রিভার্সাল এবং অন্যান্য সমন্বয়ের প্রভাব বিবেচনা করুন। সব কর্তন একই পর্যায়ে হয় না; কিছু আইটেম পরে আসতে পারে। তাই প্রতিটি সমন্বয়ের উৎস, কার্যকর তারিখ ও সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স ধরে হিসাব করুন, অনুমানভিত্তিক হার দিয়ে নয়।
৫. অমিল আলাদা করে ফল প্রকাশ করুন
ফলাফলকে মিলেছে, সময়সূচি অনুযায়ী অপেক্ষমাণ, তথ্য অসম্পূর্ণ এবং তদন্তাধীন—এমন অর্থপূর্ণ বিভাগে রাখুন। প্রতিটি অনিষ্পন্ন আইটেমে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও পরবর্তী পদক্ষেপ যুক্ত করুন। মোট অঙ্কের পার্থক্য শূন্য হলেও বিপরীতমুখী দুটি ভুল পরস্পরকে ঢেকে দিয়েছে কি না, তা লেনদেন স্তরে পরীক্ষা করুন।
সাধারণ অমিলের কারণ ও তদন্তের পথ
সফল অর্ডার সেটেলমেন্ট রিপোর্টে নেই
প্রথমে কাট-অফ, ব্যাচের সময়সীমা ও রিপোর্টের পূর্ণতা পরীক্ষা করুন। তারপর মূল চ্যানেল রেফারেন্স দিয়ে গ্রাহকের নিজস্ব চ্যানেলে অবস্থা যাচাই করুন। অর্ডারটি পরবর্তী ব্যাচে থাকার কথা হলে প্রত্যাশিত তারিখ লিখুন। নির্ধারিত সময় পার হলে প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের কাছে অনুসন্ধান পাঠান।
মোট অঙ্ক মিলছে, নিট অঙ্ক মিলছে না
ফি বা অন্যান্য কর্তন, রিফান্ড, রিভার্সাল এবং পৃথক সমন্বয় পরীক্ষা করুন। মার্চেন্ট বা চ্যানেলভেদে চুক্তির নিয়ম আলাদা হলে একই হিসাবের সূত্র সবার ওপর প্রয়োগ করবেন না। অমিল মুছতে একটি সাধারণ সমন্বয় এন্ট্রি দেওয়ার আগে উৎস শনাক্ত করুন।
একই রেকর্ড একাধিকবার দেখা যাচ্ছে
পুনরায় পাঠানো কলব্যাক বা একই রিপোর্ট দ্বিতীয়বার আমদানির কারণে ডুপ্লিকেট তৈরি হতে পারে। আবার দুটি পৃথক লেনদেনও দেখতে কাছাকাছি হতে পারে। তাই উৎস রেফারেন্স, ইভেন্ট পরিচয় এবং প্রক্রিয়াকরণের ইতিহাস যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। ডুপ্লিকেট ঠেকানোর নিয়ম যেন বৈধ নতুন লেনদেন বাদ না দেয়।
এক সিস্টেমে ব্যর্থ, অন্যটিতে সফল
টাইমআউটের পরও বাহ্যিক চ্যানেলে লেনদেন সম্পন্ন হতে পারে। কেবল অভ্যন্তরীণ ব্যর্থ স্ট্যাটাস দেখে নতুন অর্থপ্রদানের নির্দেশ পাঠালে দ্বৈত পেমেন্টের ঝুঁকি থাকে। আগে মূল নির্দেশের চূড়ান্ত অবস্থা যাচাই করুন; অনিশ্চিত অবস্থায় তদন্ত ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।
অমিল ট্র্যাকিংকে কার্যকর কেস ব্যবস্থাপনায় আনুন
অমিলের তালিকা তৈরি করাই শেষ কাজ নয়। প্রতিটি আইটেম কীভাবে শনাক্ত হলো, কে দেখছে এবং কোন প্রমাণে বন্ধ করা হলো—এই ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। একটি কেন্দ্রীয় কেস তালিকা বা উপযুক্ত অভ্যন্তরীণ টুলে নিচের তথ্য রাখা কার্যকর:
- কেস আইডি, সংশ্লিষ্ট অর্ডার, মার্চেন্ট, চ্যানেল ও ব্যাচ রেফারেন্স।
- প্রত্যাশিত অঙ্ক, পাওয়া অঙ্ক, মুদ্রা এবং পার্থক্যের পরিমাণ।
- অমিলের ধরন, প্রথম শনাক্তের সময় এবং বর্তমান অবস্থা।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পরবর্তী পদক্ষেপ ও পর্যালোচনার সময়।
- উৎস রিপোর্ট, প্রাসঙ্গিক লগ, যোগাযোগের রেফারেন্স ও সমাধানের প্রমাণ।
- প্রয়োজনীয় হিসাব সংশোধনের অনুমোদন এবং কেস বন্ধের কারণ।
অগ্রাধিকার নির্ধারণে শুধু অঙ্ক নয়, অপেক্ষার সময়, পুনরাবৃত্তি এবং মার্চেন্টের ওপর প্রভাব বিবেচনা করুন। একই ধরনের ছোট অমিল বারবার ঘটলে সেটি একটি নিয়ম বা ইন্টিগ্রেশন ত্রুটির লক্ষণ হতে পারে।
সমাধানের পর সংশ্লিষ্ট হিসাব আবার মিলিয়ে দেখুন। স্ট্যাটাস বদলানো বা কেস বন্ধ করা নিজে অর্থপ্রাপ্তির প্রমাণ নয়। মূল রেকর্ড অক্ষত রেখে অনুমোদিত সংশোধন এবং তার কারণ সংরক্ষণ করুন, যাতে পরে পুরো ঘটনাক্রম পুনর্গঠন করা যায়।
API ইন্টিগ্রেশন, অনুমতি ও রিপোর্টিংয়ের নিয়ন্ত্রণ
পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ নিরাপদ করুন
API সংযোগের নকশায় একই নির্দেশ বা ইভেন্ট পুনরায় এলে কী হবে, তা নির্ধারণ জরুরি। আইডেমপোটেন্সি, কলব্যাক যাচাই, রিট্রাই এবং স্ট্যাটাস অনুসন্ধানের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বাস্তব সক্ষমতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করুন। কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল সব সুবিধা দেয়—এমন ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা করবেন না।
দেখা, সংশোধন ও অনুমোদনের অধিকার আলাদা করুন
অপারেশনস দল লেনদেন অনুসন্ধান করতে পারলেও সবার আর্থিক সমন্বয় করার অধিকার থাকা উচিত নয়। সংবেদনশীল পরিবর্তনে প্রস্তুতকারী ও অনুমোদনকারী আলাদা রাখার নীতি বিবেচনা করুন। লগ ও তদন্তের নথিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য বা API গোপন তথ্য প্রকাশ করবেন না।
রিপোর্টে অনিষ্পন্ন অবস্থাও দৃশ্যমান রাখুন
মিল হওয়া রেকর্ডের পাশাপাশি অনিষ্পন্ন অঙ্ক, বয়সভিত্তিক বকেয়া, অমিলের কারণ এবং পুনরাবৃত্ত সমস্যার সারাংশ দেখুন। স্বয়ংক্রিয় ম্যাচিংয়ের অনুপাত হিসাব করলে কোন রেকর্ডগুলো গণনার মধ্যে আছে, তা স্পষ্ট করুন। অসম্পূর্ণ ডেটা বাদ দিয়ে ভালো ফল দেখানো প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল করতে পারে।
BD Payment-এর সফটওয়্যার কী ভূমিকা রাখতে পারে?
BD Payment পেমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার ভাড়া, ডেপ্লয়মেন্ট এবং প্রযুক্তিগত/API ইন্টিগ্রেশন সেবা প্রদান করে। এর সফটওয়্যার কার্যপরিধিতে অর্ডার ও মার্চেন্ট ব্যবস্থাপনা, অর্থ সংগ্রহ ও পরিশোধের কার্যপ্রবাহ, একাধিক চ্যানেল ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় অর্ডার ম্যাচিং, আর্থিক রিকনসিলিয়েশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, এজেন্ট, রিপোর্ট, অনুমতি এবং লেনদেন অনুসন্ধান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
গ্রাহক নিজের পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার করেন। ডেটার কাঠামো, রিপোর্টের প্রাপ্যতা এবং ব্যবসার প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বাধীন ডেপ্লয়মেন্ট বা মাল্টি-টেন্যান্ট ডেপ্লয়মেন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড বা কাস্টম API সংযোগ মূল্যায়ন করা যায়। অমিলের কেস প্রবাহ, অনুমোদন এবং রিপোর্টের নির্দিষ্ট চাহিদা বাস্তবায়নের আগে যাচাই করা উচিত।
BD Payment ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইলেকট্রনিক ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট চ্যানেল, লাইসেন্স বা নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রদান করে না। সফটওয়্যার সংযোগ কোনো ব্যাংক বা ওয়ালেটের সঙ্গে অংশীদারত্ব কিংবা নির্দিষ্ট সেটেলমেন্ট সক্ষমতার নিশ্চয়তা নয়। প্রকৃত অর্থ চলাচল ও সেটেলমেন্ট সংশ্লিষ্ট চ্যানেল এবং গ্রাহকের চুক্তির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলো গ্রাহককে নিজের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী স্থানীয় যোগ্য পেশাজীবীর সঙ্গে যাচাই করতে হবে।
চালুর আগে পরীক্ষার তালিকা
পুরো কার্যক্রমে প্রয়োগের আগে সীমিত পরিসরে প্রতিনিধিত্বমূলক ডেটা দিয়ে পরীক্ষা করুন। শুধু স্বাভাবিক সফল অর্ডার নয়, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত করুন।
- স্বাভাবিক লেনদেন, বিলম্বিত রিপোর্ট, রিফান্ড ও রিভার্সালের রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন।
- একই রিপোর্ট দুবার দিলে হিসাব দ্বিগুণ হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।
- কাট-অফ অতিক্রম করা অর্ডার এবং এক ব্যাচে একাধিক অর্ডারের জমা যাচাই করুন।
- একাধিক সম্ভাব্য ম্যাচ ও অসম্পূর্ণ তথ্য মানুষের পর্যালোচনায় যাচ্ছে কি না দেখুন।
- অনুমতি, সংশোধনের ইতিহাস এবং কেস বন্ধের প্রমাণ যাচাই করুন।
- ফাইন্যান্স, অপারেশনস ও প্রযুক্তি দলের দায়িত্ব লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন।
সংক্ষেপে
নির্ভরযোগ্য সেটেলমেন্ট রিকনসিলিয়েশনের ভিত্তি হলো পূর্ণ ডেটা, সঠিক রেফারেন্স, সময়সূচি অনুযায়ী হিসাব এবং প্রমাণভিত্তিক অমিল নিষ্পত্তি। স্বয়ংক্রিয় ম্যাচিং পুনরাবৃত্ত কাজ কমাতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু অনিশ্চিত ফলের পর্যালোচনা বাদ দেওয়া উচিত নয়। সফটওয়্যার মূল্যায়নের সময় নিজের চ্যানেলের রিপোর্ট ও ব্যতিক্রমী লেনদেনের নমুনা ব্যবহার করলে বাস্তব প্রয়োজন এবং ইন্টিগ্রেশনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. অর্ডার সফল হলে কি সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে?
না। সফল অর্ডার পেমেন্ট প্রক্রিয়ার একটি অবস্থা নির্দেশ করে। সেটেলমেন্ট যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাচ, প্রযোজ্য সমন্বয় এবং অর্থপ্রাপ্তির রেকর্ড দেখতে হবে। স্ট্যাটাসগুলোর অর্থ আগে থেকে নির্ধারণ করা জরুরি।
২. কত ঘন ঘন রিকনসিলিয়েশন করা উচিত?
লেনদেনের পরিমাণ, চ্যানেলের রিপোর্ট প্রকাশের সময় ও ব্যবসার ঝুঁকি অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণ করুন। দৈনিক অপারেশনাল যাচাইয়ের পাশাপাশি রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যাচভিত্তিক সেটেলমেন্ট যাচাই করা যেতে পারে। প্রত্যাশিত সময় না পেরোলে অপেক্ষমাণ আইটেমকে নিশ্চিত ঘাটতি বলবেন না।
৩. স্বয়ংক্রিয় অর্ডার ম্যাচিং কি সব অমিল সমাধান করে?
না। এটি নির্ধারিত নিয়মে রেকর্ড মেলাতে সহায়তা করে। অনুপস্থিত রিপোর্ট, অস্পষ্ট রেফারেন্স, চুক্তিভিত্তিক কর্তন বা বাস্তব অর্থপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা সমাধানে অতিরিক্ত প্রমাণ ও মানুষের পর্যালোচনা লাগতে পারে।
৪. অমিল পাওয়া গেলে কি লেনদেন আবার পাঠাতে হবে?
সরাসরি আবার পাঠানো উচিত নয়। আগে মূল লেনদেনের অবস্থা ও বাহ্যিক রেফারেন্স যাচাই করুন। বিশেষত অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে টাইমআউটের পর পুনরায় নির্দেশ পাঠালে দ্বৈত পেমেন্টের ঝুঁকি থাকতে পারে।
৫. BD Payment ব্যবহার করলে কি পেমেন্ট চ্যানেলও পাওয়া যাবে?
না। BD Payment সফটওয়্যার ভাড়া, ডেপ্লয়মেন্ট ও প্রযুক্তিগত/API সংযোগ সেবা দেয়; গ্রাহক নিজের চ্যানেল ব্যবহার করেন। ব্যাংক বা ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট, চ্যানেল, লাইসেন্স কিংবা নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এই সেবার অংশ নয়।